আল্লাহ্‌ তার বান্দাকে যেভাবে হেফাজত করেন...

আল্লাহ্‌ তার বান্দাকে কীভাবে হেফাজত করেন সেই বিষয়ে ইবনে রজব হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

"বান্দার দ্বীনকে হেফাজত করার জন্য আল্লাহ্‌র আরেকটি পদ্ধতি হলো বান্দার দুনিয়াবি কামনা ব্যর্থ করে দেওয়া। বান্দা হয়তো নেতৃত্ব বা ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো কোনো দুনিয়াবি জিনিসের পেছনে ছুটছে। কিন্তু এটা তার দ্বীনের জন্য কল্যাণকর নয় বলে আল্লাহ্‌ তাকে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ করে দেন। বান্দা এর পেছনে আল্লাহ্‌র হিকমাহ বুঝতে না পেরে দুঃখিত হয়ে যায়।
.
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, “বান্দা হয়তো ব্যবসায় বা নেতৃত্বের জন্য তোড়জোড় করে এই আশায় যে, তা তার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ্‌ তাকে দেখে ফেরেশতাদের আদেশ দেন, ‘তাকে এ থেকে বিরত রাখো। কারণ আমি যদি তার জন্য এটির ইচ্ছা করতাম, তাহলে তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাতাম।’ ফলে আল্লাহ্‌ তাকে এ কাজ থেকে বিরত রাখবেন। বান্দা রাগে-দুঃখে বলতে থাকবে, ‘অমুক আমাকে হারিয়ে দিলো! তমুক আমাকে ছাড়িয়ে গেলো!’ অথচ এ সবই আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দয়া।”
.
আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, বান্দা হয়তো কোনো নেক আমল করতে তৎপরতা চালাচ্ছে, কিন্তু তা তার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পথ নয়। ফলে আল্লাহ্‌ তার ও তার আমলের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে যান আর বান্দা সেটা টেরও পায় না।

তাবারানিতে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন, “আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যাদের ঈমান কেবল দারিদ্র্যের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। আমি যদি তাকে প্রাচুর্য দিতাম, তার ঈমান হ্রাস পেতো। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যাদের ঈমান কেবল প্রাচুর্যের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। আমি যদি তাকে দারিদ্র্য দিতাম, তার ঈমান হ্রাস পেতো। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যাদের ঈমান কেবল সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। আমি যদি তাকে অসুস্থতা দিতাম, তার ঈমান হ্রাস পেতো। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যাদের ঈমান কেবল অসুস্থতার মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। আমি যদি তাকে সুস্বাস্থ্য দিতাম, তার ঈমান হ্রাস পেতো। আমার বান্দাদের মাঝে অনেকে কোনো একটি ইবাদাত করতে চায়, কিন্তু আমি তাদের তা থেকে বিরত রাখি যাতে তারা অহংকারে পতিত না হয়। বান্দাদের অন্তরে কী আছে, তার ব্যাপারে আমার জ্ঞানের ভিত্তিতে আমি তাদের অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করি। আমি সর্বজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ।"
.
(ইবনু আবিদ্দুনিয়া, আল-আওলিয়া, পৃষ্ঠা ১০০; আবু নুয়াইম, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩১৮; বায়হাকি, আল-আসমা ওয়াসসিফাত, পৃষ্ঠা ১৫০, আবু নুয়াইম হাদীসটিকে গারীব বলেছেন এবং জামিউল উলুম, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৩-এ ইবনু রজব বলেছেন, “এতে আল-খুশানি ও সাদাকাহ রয়েছেন। উভয় বর্ণনাকারীই যঈফ, এবং আরেক বর্ণনাকারী হিশাম অপরিচিত।“ আলবানি, আয-যঈফাহ, ১৭৭৫ এ একে যঈফ জিদ্দান বলেছেন)

Comments

Popular posts from this blog

This Week’s Top Stories About Travel

সুন্নাহর আলোকে সাহু সিজদা